16/05/2026
৬ নাম্বার পয়েন্ট is the main point!
তাদের জন্য আমাদের ভূল চিকিৎসা নামক গুজব
তাদের জন্য আমাদের খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করা,ক্যামিকেল দিয়ে ভরপুর করা
তাদের জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা
তাদের জন্য হামের প্রাদুর্ভাব এ বাচ্চাদের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেয়া
তাদের জন্য নিজেরা ভালো খাদ্য না খেয়ে মরা
তাদের জন্য শিক্ষিত থেকে মিছিলের জন্য জরুরি বস্তিবাসী তৈরি করা
তাদের জন্য জুলাই প্রীতি দের নিয়ে যা খুশি তাই গুজব বের করা......
অভাব নাই অভাব নাই। কি কি ছড়ায় আর কেন ছড়ায়, তা নিয়ে একটু সতর্ক হোন এখন থেকে,সব ঘটনা / কথা দেখা মাত্র গিলবেন না। কি কি করলে নিজের জীবনের জন্য ভালো সেটা ভাবেন। নিজের জীবন প্রত্যেকে সুন্দর করতে জানলে দেশ আপনা আপনি বদলাতে চায়।
**** #ভুল_চিকিৎসায়, #কারিনা_কায়সার
আমি খুব আগ্রহ নিয়ে দেখছি, কীভাবে কারিনা কায়সারের গল্পটা “জীবনের জন্য লড়াই করা এক তরুণ রোগী” থেকে ধীরে ধীরে আরও নাটকীয় “ভুল চিকিৎসা” কাহিনিতে রূপ নিচ্ছে। কারিনার চিকিৎসা টিমের একজন সদস্য হিসেবে শুরু থেকে সবকিছু সরাসরি জানার পরও আমি চুপ থাকাই পছন্দ করেছি, যদিও অনেকেই তার বিষয়ে জানতে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সাধারণ মানুষের বোধগম্যের বাইরে থাকা জটিল চিকিৎসাবিষয়ক আলোচনা তাদের সঙ্গে করা প্রয়োজন মনে করিনি। কিন্তু সম্প্রতি দেখলাম, বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া আবারও পুরোনো “ভুল চিকিৎসা” অভিযোগ সামনে আনছে। তাই কয়েকটি কথায় বিষয়টা শেষ করা প্রয়োজন মনে করছি—
১. কারিনাকে যখন আমাদের ICU-তে ভর্তি করা হয়, তখন তার শরীর ফ্যাকাশে হলুদ (তীব্র জন্ডিস), মানসিকভাবে বিভ্রান্ত ও অস্থির ছিল। এই দুটি লক্ষণই যেকোনো চিকিৎসককে গুরুতর লিভার রোগের সন্দেহ করতে বাধ্য করবে—যে রোগ ইতোমধ্যেই তার মস্তিষ্ক ও চেতনাকেও প্রভাবিত করেছিল। সে ক্রমাগত চিৎকার করছিল, আশেপাশের সবাইকে গালাগাল দিচ্ছিল, বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করছিল এবং চিকিৎসার জন্য লাগানো ক্যানোলা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি খুলে ফেলতে চাইছিল। তাই তার নিরাপত্তার জন্য আমাদের তাকে এমন ওষুধ দিয়ে সেডেট করতে হয়, যেগুলো লিভারের জন্য ক্ষতিকর নয়। ফলে “অতিরিক্ত সেডেশন তার অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছে”—এই দাবি ভিত্তিহীন।
২. কারিনার পরিবার জানিয়েছিল, অবস্থা খারাপ হওয়ার আগে সে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিল। সে পরিবারের কাউকে কিছু বলেনি (তার বাবাকেও সংবাদমাধ্যমে একই কথা বলতে দেখা যায়) এবং জ্বরের জন্য প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ওষুধ খেয়েছিল। মাঝারি থেকে গুরুতর লিভার ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের জন্য প্যারাসিটামল ক্ষতিকর হতে পারে। বাড়িতে নিয়মিত প্যারাসিটামল খাওয়া তার লিভারের অবস্থা আরও খারাপ করে থাকতে পারে।
৩. পরীক্ষায় তার শরীরে একসঙ্গে হেপাটাইটিস A ও হেপাটাইটিস E ভাইরাস শনাক্ত হয়। এই দুই ভাইরাস সাধারণত খাবারের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আলাদাভাবে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। কিন্তু একই ব্যক্তির শরীরে একসঙ্গে পাওয়া গেলে পরিস্থিতি প্রায়ই ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায়। আলহামদুলিল্লাহ, কারিনা এখনো বেঁচে আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার এক বন্ধুকে একই রোগে, আরও কম বয়সে হারিয়েছি।
৪. যখন সে প্রায় শ্বাস নিতে অক্ষম হয়ে পড়েছিল, তখন তাকে ভেন্টিলেটরে (আপনাদের ভাষায় লাইফ সাপোর্ট) নেওয়া হয়। তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর যেকোনো হাসপাতাল জানে, ভেন্টিলেটরে থাকা রোগীদের কেন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তাই “অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়েছে”—এই দাবিও ভিত্তিহীন।
৫. ভেন্টিলেটরে নেওয়ার অনেক আগেই তার পরিবারকে এমন হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্ভব। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও একটি বিস্তারিত কেস সামারি তাদের দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তার ভর্তি হওয়ার দিন থেকে সব তথ্য উল্লেখ ছিল। তারা আমাদের জানিয়েছিল, সেই কাগজপত্র নিয়ে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু রোগের বর্তমান অবস্থার কারণে তারা রোগী নিতে রাজি হয়নি। তবে আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ দ্রুত নিয়ে গেলে চেষ্টা করা যেতে পারে বলে আশ্বাস দেয়। সে দেশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সাপোর্টিভ চিকিৎসা চালিয়ে গেছি।
৬. এরপর যখন সেই “প্রতিবেশী” দেশ বুঝতে পারল, কেন সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলো শুরুতেই তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, এবং রোগীর স্বজনরা ইতোমধ্যে তাদের দেওয়া আশ্বাসে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে সেখানে চলে গেছেন, তখন তারা সবচেয়ে সহজ পথ বেছে নেয়—সব দোষ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এই দোষারোপের কৌশল তাদের রোগীর সংখ্যা বাড়াতেও সাহায্য করে।
কারিনার পুরো হাসপাতালে থাকার সময়কাল, চিকিৎসার ধাপ, ব্যবহৃত ওষুধ এবং আমাদের সঙ্গে তার পরিবারের সব কথোপকথন নথিভুক্ত ও সংরক্ষিত আছে ভবিষ্যতের জন্য। তাই স্থানীয় অর্ধশিক্ষিত মিডিয়া, স্বজন বা প্রতিবেশী রাষ্ট্র—কারও মিথ্যা দাবি করার সুযোগ নেই। আর আপনারা, সাধারণ “বাঙুস” জনগণ—যারা ইতোমধ্যে কারিনার ব্যক্তিগত জীবন ও অভ্যাস নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে তর্ক করছেন এবং তাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলছেন—আপনারা যা খুশি তাই করে যান। এসবের কোনোটাই কারিনা, তার পরিবার বা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কোনো কিছু না জেনেই মানুষকে অপমান ও বদনাম করার দায় আপনাদেরই।
Copied