বনলতা - Banalata

বনলতা - Banalata কাগজ, কাঠ, পাট, পুঁতি ও কাপড়ের হাতে তৈরী গয়না ও শোপিসের স্টোর

25/10/2022
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের সকল শুভাকাঙ্খিদের জানাই প্রানঢালা শুভেচ্ছা
08/03/2022

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের সকল শুভাকাঙ্খিদের জানাই প্রানঢালা শুভেচ্ছা

11/10/2021
04/10/2020

মরিংগা পাউডার (Moringa Powder) বা সজিনা পাতা গুড়াকে সুপার ফুড বলা হয়।
সজিনা পাতা সম্পর্কে কিছু তথ্য যা আপনাকে অবাক করবেঃ
🌿সজিনা পাতায় কমলা লেবুর তুলনায় ৭ গুণ ভিটামিন-সি রয়েছে।
🌿 দুধের তুলনায় ৪ গুণ ক্যালসিয়াম এবং দুই গুণ আমিষ রয়েছে।
🌿 গাজরের তুলনায় ৪ গুণ ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।
🌿 কলার চেয়ে ৩ গুণ পটাশিয়াম বিদ্যমান।
শুনে আরও অবাক হবেন যে সজিনার পাতা পানিকে আর্সেনিক মুক্তও করে।
আসুন এই অলৌকিক পাতার আরো কিছু বিস্ময়কর গুন জেনে নেইঃ
🌱সজিনার পাতা হৃদরোগীদের জন্যে ঠিক ওষুধের মত কাজ করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, কোলেস্টেরল কমায়, ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখে।
🌱এক টেবিল চামচ শুকনা সজিনা পাতার গুঁড়া থেকে ১-২ বছর বয়সী শিশুদের অত্যবশ্যকীয় ১৪% আমিষ, ৪০% ক্যালসিয়াম ও ২৩% লৌহ ও ভিটামিন-এ সরবরাহ হয়ে থাকে।
🌱দৈনিক ৬ চামচ সজনে পাতার গুঁড়া একটি গর্ভবর্তী বা স্তন্যদাত্রী মায়ের চাহিদার সবটুকু ক্যালসিয়াম ও আয়রন সরবরাহ করতে সক্ষম।
🌱 সজিনা পাতা বহুমূত্র রোগের জন্যে অনেক উপকারী।
🌱সজিনার ডাটা থেকে সজিনার পাতা অধিক উপকারী।
🌱এলার্জি জনিত সমস্যা হলে সজিনার পাতা বেটে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
🌱প্রতিদিন সকালে এক চামচ শুকনা গুড়া পানিতে গুলিয়ে খেলে পেটের প্রদাহ, গ্যাস্ট্রিক মুক্তি পাওয়া যায়।
🌱গেটেবাত এর জন্যে সজিনা পাতা বেটে হাটুতে বা যে স্থানে ব্যাথা হয় লাগিয়ে রাখলে ব্যাথা মুক্তি পাওয়া যায়।
🌱সজিনার ফুল এ ও অনেক উপকার আছে যেমন : হজম শক্তি বাড়ায়, কোষ্ট কাঠিন্য দূর করে ইত্যাদি।
🌱সজিনার পাতা পোকার কামড়ের তাতক্ষনাৎ এন্টিসেপ্টিক হিসেবে অনেজ ভালো কাজ করে।
🌱 সজিনার পাতা ক্রিমিনাশক হিসেবে কাজ করে। ক্রিমি সমস্যা করলে সজিনা পাতা গুড়ো করে অথবা অন্য খাবারের সাথে খান।
🌱সজিনা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর কে কর্মঠ রাখে। হাড় এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যা আত্মরক্ষার ও ভূমিকা পালন করে।
🌱 সজিনা পাতা যকৃত ও কিডনির কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ করে কিডনি ও লিভার সুস্থ রাখে।
🌱সজিনা পাতা গর্ভবস্থায় মায়ের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি করে কোনো ধরনের পার্শ প্রতিক্রিয়া ছাড়া।
🌱শরীরের ওজন কমাতে অনেক সাহায্য করে। ব্যায়াম এর পাশাপাশি সজিনা পাতা খান।
🌱 ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ দের মতে সজিনা পাতা ও ডাটা প্রায় ৩০০+ রোগের জন্যে উপকারী ও রোগ নিরাময় করে।
🌱সজনে পাতা বাচ্চাদের পেট পরিষ্কার রাখে।
🌱 সজনে পাতা চামড়া ও চুলের জন্যে ও ভালো।
এবার এর ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ
💅ত্বক এর জন্যে :
মধুর সাথে সজিনা পাতার রস বা শুকনো গুড়া মিশিয়ে মুখে লাগানে পারেন। এতে মুখের চামড়া টান টান হয়, পরিষ্কার হয় ব্রণ দূর হয়।
💅 ত্বক এর ক্ষতস্থান এর মধ্যে লাগাতে পারেন পাতা বেটে বা গুড়া পেস্ট করে। সজনে পাতা ত্বক এর মধ্যে ক্ষত থাকলে তা ও সারায়।
💅চুলের জন্যে :
সজনে পাতার রস বা শুকনা গুড়া পেস্ট করে সাথে মধু মিক্স করে বা এমনি মাথায় দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে চুল পড়া কমবে। মাথার ত্বক পুষ্টি গুণ পাবে। মাথা ঠান্ডা থাকবে। চুল সুন্দর ও ঘন হবে।
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।....( সংগৃহিত )

30/09/2020

চাকরিপ্রার্থীদের কাছে "বাবু খাইছো" বাক্যটির বিশ্লেষণ
১. "বাবু খাইছো" এর "বাবু" কোন ভাষার শব্দ?
উঃ তুর্কি
২. "বাবু খাইছো" এর "খাইছো" কোন ভাষার শব্দ?
উঃ চলিত/আঞ্চলিক ভাষার শব্দ
২. "বাবু" কোন লিঙ্গ?
উঃ উভলিঙ্গ
৩. "বাবু" তে বর্ণ কয়টি, অক্ষর কয়টি এবং কি কি অক্ষর?
উঃ বর্ণ ২টি (ব,ব), অক্ষর দুইটি (Babu - আ এবং উ), দুটি অক্ষরই মুক্তাক্ষর।
৪. "বাবু খাইছো" এর "খাইছো" কি ধরনের ধ্বনির পরিবর্তন?
উঃ খেয়েছো>খাইছো (পরাগত স্বরসঙ্গতি)
৫. বাবুর "ব" এর উচ্চারন স্থান অনুযায়ী কি বর্ণ?
উঃ ওষ্ঠ বর্ণ
৬. বাবুর "ব" কোন বর্গীয় বর্ণ?
উঃ প বর্গীয় বর্ণ
৭. বাবুর "ব" উচ্চারন স্থান অনুযায়ী কি ধ্বনি?
উঃ স্পর্শ ধ্বনি / ঘোষ অল্পপ্রান ধ্বনি
৮. "বাবু" এর সন্ধি বিচ্ছেদ ও কোন সন্ধি?
উঃ বা+বু = বাবু ( অন্তঃ স্বরসন্ধি)
৯. "বাবু" এর স্ত্রী বাচক শব্দ কি?
উঃ বাবু> বাবুনি/ বাবুর বউ (দুটি স্ত্রী বাচক শব্দ)
১০. "বাবু" এর বহুবচন কি?
উঃ বাবুগন (উন্নত প্রানীবাচক শব্দে গন,বৃন্দ,মন্ডলী,বর্গ হয়)
১১."বাবু খাইছো" এর "খাইছো" কোন ধরনের ধাতু?
উঃ সাধিত ধাতু
১২."খাইছো" কি ধরনের প্রত্যয়?
উঃ কৃৎ প্রত্যয়
১৩. বাবু কোন পদ?
উঃ বিশেষ্য পদ> স্বামী,ছেলে অর্থে / বিশেষন পদ > ধনী/ বিলাসী অর্থে
১৪. "বাবু খাইছো" কি ধরনের ক্রিয়া?
উঃ অকর্মক সমাপিকা ক্রিয়া (কি বা কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না)
১৫. "বাবু খাইছো" কোন কাল?
উঃ সাধারন বর্তমান কাল
১৬. "বাবু খাইছো" কোন পুরুষ?
উঃ সাধারন মধ্যম পুরুষ (তুমি, তোমরা)
১৮. "বাবু খাইছো?" কি ধরনের বাক্য?
উঃ সরল বাক্য এবং প্রশ্নসূচক বাক্য
১৯. "বাবু" শব্দের বিপরীত শব্দ?
উঃ বুড়ো (যুবক-বৃদ্ধ)
২০. "বাবু" শব্দের সমার্থক শব্দ?
উঃ প্রচলিত অর্থে - হিন্দু পরিবারের কর্তা বা বয়স্ক পুরুষ, সম্মানী ব্যাক্তি / আধুনিক অর্থে - প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী।
২১. "বাবু খাইছো" এর পরোক্ষ উক্তি কি?
উঃ বাবুর খাওয়া হয়েছে কিনা তা সে জানতে চেয়েছেন
২২. "বাবু খাইছো" (বাচ্য পরিবর্তন-কর্ম)
উঃ বাবুর দ্বারা খাওয়া হয়েছে কি
২৩. "বাবু খাইছো" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
উঃ করনে তৃতীয়া (বাবুর দ্বারা খাওয়া বোঝানো হচ্ছে)/ অন্যদিকে শর্ত(১৮+) ত্যাগ করে খাওয়া অর্থে সম্প্রদান কারকে শূন্য বিভক্তি হবে ।

সংগৃহীত

শিক্ষণীয়! সম্মানের সাথে সদ্য স্মাতক হওয়া মেয়েকে ভাল একটা উপহার দেয়ার জন্য বাবা মেয়েকে নিয়ে গ্যেরেজে গেলেন। বললেন,“এখানের...
22/08/2020

শিক্ষণীয়!

সম্মানের সাথে সদ্য স্মাতক হওয়া মেয়েকে ভাল একটা উপহার দেয়ার জন্য বাবা মেয়েকে নিয়ে গ্যেরেজে গেলেন। বললেন,“এখানের এই গাড়িটা অনেক বছর আগে আমি নিয়েছিলাম। এখন এর অনেক বয়স হয়ে গেছে। তোমার খুশীর এই মুহূর্তে এটা আমি তোমাকে উপহার হিসেবে দিতে চাই। তবে তার আগে তুমি এটা বিক্রির জন্য ব্যবহার করা গাড়ির শোরুমে যাও এবং দেখ তারা তোমাকে কত অফার করে।”

মেয়ে ব্যবহৃত গাড়ির শোরুম থেকে বাবার কাছে ফিরে এসে বলল, ′′ তারা আমাকে এক হাজার ডলার অফার করেছে কারণ এটি দেখতে খুব জরাজীর্ণ।”

বাবা বললেন, “এবার এটা ভাঙ্গারি দোকানে নিয়ে যাও, দেখ ওরা কি বলে!”

মেয়ে ভাঙ্গারি দোকান থেকে ফিরে এসে বলল, “এটা অনেক পুরনো গাড়ি বলে এখানে মাত্র ১০০ ডলার অফার করেছে।′′

বাবা তখণ একটা গাড়ির ক্লাবে গিয়ে গাড়িটা দেখাতে বললেন। মেয়ে গাড়িটি ক্লাবে নিয়ে গেল এবং ফিরে এসে খুশিতে তার বাবাকে বলল, "ক্লাবে কিছু লোক খুবই কৌতূহল ভাবে গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করলো এবং এর জন্য এক লক্ষ্ ডলার অফার করেছে। যেহেতু এটি একটি Nissan Skyline R34, একটি আইকনিক গাড়ি।"

তখন বাবা তাঁর মেয়েকে বললেন, "সঠিক জায়গার সঠিক লোক তোমাকে সঠিক ভাবেই মূল্যায়ন করবে। আর যদি কোথাও তোমাকে মূল্য না দেওয়া হয়, তবে রাগ করবেনা। বুঝে নিবে এর মানে তুমি ভুল জায়গায় আছো। তারাই তোমার মূল্য দিবে, যাদের নিজেদের মূল্যবোধ আছে, গুনের মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্যতা আছে। এমন জায়গায় কখনো থেকো না যেখানে তোমার মূল্য কেউ দেখে না!!!!

(সংগৃহীত)

17/08/2020

ভগ্নী চলিয়া গেলে অপূর্ব অন্ধকারে সাবধানে খাটের অভিমুখে গেল। খাটে প্রবেশ করিতে উদ্যত হইতেছে এমন সময়ে হঠাৎ বলয়নিক্বণ শব্দে একটি সুকোমল বাহুপাশ তাহাকে সুকঠিন বন্ধনে বাঁধিয়া ফেলিল এবং একটি পুষ্পপুটতুল্য ওষ্ঠাধর দস্যুর মতো আসিয়া পড়িয়া অবিরল অশ্রুজলসিক্ত আবেগপূর্ণ চুম্বনে তাহাকে বিস্ময় প্রকাশের অবসর দিল না। অপূর্ব প্রথমে চমকিয়া উঠিল, তাহার পর বুঝিতে পারিল, অনেক দিনের একটি হাস্যবাধায়-অসম্পন্ন চেষ্টা আজ অশ্রুজলধারায় সমাপ্ত হইল।
------ কবিগুরুর লেখা সমাপ্তি গল্পের শেষ প্যারা

12/08/2020

রিশাকে আমি চড় মারার সাথেই ওর দাদু মানে আমার শাশুড়ী মা আমার সাথে চিৎকার করে উঠল,তুমি এটা কি করলা বৌমা, এত্ত বড় মেয়ের গালে এক ঘর মানুষের সামনে চড় মারলা তাও আমার সামনে? কান্ডজ্ঞান হারিয়ে বসে আছ নাকি?
রাগে আমার গা কাঁপতে থাকে আমি রিশার হাত ধরে টেনে ওকে ঘরে এনে দরজা লাগিয়ে দেই। আমার শাশুড়ী,ননদ দরজা ধাক্কাতে থাকে আমি পাত্তা দেইনা।
মেয়েকে চিরুনি দিয়ে মারতে মারতে বলতে থাকি, অসভ্য মেয়ে, তুমি বড় হইছ না? সবে ক্লাস নাইনে উঠেছ এত্ত বড় তুমি হয়েছ যে স্কুলে না গিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াও? আজ আসুক তোমার বাবা তখন তোমার ব্যবস্থা করব। লেখা পড়ার তো এইনা ছিরি ভাইকে দেখেতো শেখনাই কিছু। আমার ছেলের নখের ও যোগ্যি না তুই। আমাদের মান সম্মান ডোবানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিস।
রিশা কাঁদতে থাকে আমি ওকে রেখে বের হয়ে আসি। ওর রুমে গিয়ে সব তোলপাড় করি। টেবিলের ড্রয়ার, আলমারী,তোশকের নিচে, ব্যাগের ভেতর, বইয়ের তাকে। কিছু না কিছুতো আছেই। ইদানিং প্রায়ই টাকা চায় এই সেই উছিলায়। ছোট মানুষ গুরুত্ব দেইনাই। এখন বুঝতেছি ও টাকা চায় কেন,কিছু একটা তো আছেই।
আমার শাশুড়ী ডাকতে থাকেন, বৌমা দুপুর তিনটা বাজে বাড়িতে মেহমান সে খেয়াল আছে তোমার? ভাত দাওনা কেন টেবিলে? জামাইকে কি না খাওয়াইয়া রাখবা?
আমি খাবার দিতে যাই। আমার ননদ বলে ভাবি, রিশাকে ডাক।
-নাহ্ ওর ভাত বন্ধ।
-বৌমা জিদ করোনা। রিশাকে ডাক দাও।
-মা বেয়াদবী নিবেন না, আর নিলেও আমি নিরুপায় আজ দুপুরে রিশার ভাত বন্ধ। ওর বাবা আসুক। রাফি বাবা টেবিলে আয় সোনা। পরে পড়িশ। না খেলে পড়াশোনা করবি কি করে?
আমার ননদ রাগ করে খাবার রেখে উঠে যায়। সব কিছুতে বাড়াবাড়ি। আমার মেয়েকে আমি শাসন করব না আদর করব সেটা আমার ব্যাপার,বেড়াতে আসছে দু দিন থাকবে চলে যাবে। তানা সব কিছুতে নাক গলানো চাই।
রাফি-রিশার বাবা ফিরল রাত আট টা নাগাদ। রিশার রুমের আলমারীর কাপড়ের নিচে একটা ডায়েরী পেয়েছি। ডায়েরি টা বের করে নিয়ে এসে ওকে ওর রুমে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওর দাদু খাবার নিয়ে অনেক সাধাসাধি করেছে উনি খাবেন না। বেয়াদ্দপ হয়েছে মেয়েটা। রাগ দেখায়, জীদ করে। আজ ওর একটা ব্যবস্থা করব৷ চাকরী করলাম না শুধু মাত্র ছেলে মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে আর এই মেয়ে কিনা তলে তলে আমার চোখ ফাঁকি দিচ্ছে! আজ বাড়ীতে ননদ,ননদাই আসায় আমি স্কুল থেকে আনতে যেতে পারিনি। রাফিকে পাঠিয়েছিলাম ও নাকি গিয়ে রিশাকে পায় নি। মিনিট দশেক পর রিক্সায় ফিরতে দেখা যায় ওকে ওর বান্ধবীর সাথে। এত্ত চালাক হয়েছে মেয়েটা, জানে যে আজ মা নিতে যাবেনা এই সুযোগ।
ওর বাবাকে নাস্তা দিয়ে ডায়রীটা নিয়ে বসি। নীল রং এর ডায়েরী,কখন লিখে ও আমার তো চোখে পড়েনা। এত চোখে চোখে রেখেছি ছেলে মেয়েকে তাও চোখ ফাঁকি দিল। ছেলেটাকে মানুষ করতে পারলেও বোধয় মেয়েটাকে পারলামনা।
আমি ব্যস্ত হাতে ডায়েরী টা খুলি। প্রায় মাঝামাঝির দিকে একটা কবিতা। কবিতা লেখা হচ্ছে তাহলে আজকাল অথচ পড়তে বসতে বললেই নানান বাহানা শুরু হয় তার, ঘুম পায়,মাথা ব্যথা, মনে রাখতে পারেনা। কি করব আমি এই মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা লাগে আমার।
পাতা উল্টাই ছোট একটা লাইন,
'আমার রাতে ঘুম আসেনা''
পড়তে বসলে ঘুমে নাকি পড়ে যায় অথচ লিখেছে তার নাকি রাতে ঘুম আসেনা। প্রেম করছে নাতো? শুনেছি প্রেমে পড়লে এমন অস্বাভাবিক অনেক কিছুই হয়, আমাদের সময় বাবা এসব ছিলনা, আজকাল কার ছেলে মেয়েদের তো এমন ভাব যেন বয়ফ্রেন্ড নাই বলতে লজ্জা হয়!
আমি আবারো পাতা উল্টাই,
''বাবাকে বললাম বাবা আজ বাইরে খেতে নিয়ে যাবে? বাবা বলল পড়াশোনায় মন দাও আমি ফেরার সময় নিয়ে আসব, কি আনতে হবে মাকে বলে দিও আমাকে জানিয়ে দিতে।
কেন কি এমন হত সবাই মিলে একটু বের হলে?
স্কুল আর বাসা, বাসা আর স্কুল। দম বন্ধ লাগে আমার। "
আমি পরের পেজে যাই,
'"মা কে আজ বললাম আমার কাছে ঘুমাও, মা রাজি হলনা অথচ প্রায়ই রাতে মা বাবার সাথে রাগারাগী করে আমার ঘরে এসে ঘুমায় মাঝে মাঝে কান্না করে আমি বুঝতে পারি, আমার ইচ্ছে করে মাকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু আমি জেগে আছি জানলে যদি বকা দেয় তাই সাহস পাইনা"
আমি পাতা উল্টাতে থাকি,
"আমার পড়তে খুব কষ্ট হয়, মনোযোগ থাকেনা পড়লে কিছু মনেও থাকেনা, যত দিন যাচ্ছে ততই সমস্যাটা বাড়ছে,মাকে বললে মা বলে পড়ায় মন নাই তাই এসব অজুহাত দেখাই।"
"ফুপি এসেছে জেনি আপু ও এসেছে আমার খুব ইচ্ছে করে আমি জেনি আপুর সাথে গল্প করি কিন্তু মা বেশীক্ষণ মিশতে দেয়না বলে বড় বোনদের সাথে এত কিসের কথা তুমি ছোট মানুষ এখন পড়াশোনা করার সময় আড্ডা দেওয়ার অনেক সময় পরে পাবে।"
"আমার রাজু আঙ্কেলদের সাথে মিশতে ভাল লাগেনা একদম, উনার ছেলে জনি খুব অসভ্য ইঙ্গিত করে কিন্তু আমি বাবাকে বলতে পারিনা বাবার ধারনা আমি তার বন্ধুদের সামনে নিজেকে অসামাজিক প্রমানিত করতে চাই তাই যেতে চাইনা।"
"মা আজ দাদুর সাথে খুব ঝগড়া করল,তারা কেউ কাউকে দেখতে পারেনা সব সময় বাসায় একটা অশান্ত পরিবেশ, ফুপি আসলে ভাল লাগে আমার, কিন্তু ফুপিতো বেশীদিন থাকেন না। দাদু ফুপি আসলে মায়ের সাথে আরো ঝগড়া করে। মা প্রায়ই মামা বাড়ী চলে যেতে চায়, আচ্ছা মা কি সত্যিই চলে যাবে?"
"ভাইয়াকে বাবা মা অনেক ভালবাসে আমাকেও বাসে কিন্তু ভাইয়াকে বেশী বাসে। আমারো ইচ্ছে করে আমিও ভাইয়ার মত ভাল রেসাল্ট করি কিন্ত আমার তো পড়া মনে থাকেনা।"
"আমার সারাদিন ঘুম পায় কিন্তু সারা রাত ঘুম আসেনা,ক্লাসে মন বসেনা শুধু ঘুম পায়। "
"সেদিন তন্বিদের বাসায় সবাই গেল কিন্তু আমি যেতে পারলাম না, বন্ধুরা নাকি সব নষ্টের গুরু। আচ্ছা ওদের মায়েরাও একি কথা ভাবে? তাহলে আমরা সবাই কি সবাইকে নষ্ট করে দিব কিন্তু কিভাবে?"
"সারা ফোন করেছিল, মা পাশে বসে থাকে কি যে অস্বস্তি হয়, একদিন না করেছিলাম বলে পুরা একটা সপ্তাহ ফোন ধরতে দিলনা।"
"মা আমাকে কিসব পোশাক পরায় আমার ভাললাগেনা কিন্তু মা, বাবা কেউই বুঝতে চায়না বলে আমি বেশী বোঝা শুরু করেছি,আচ্ছা আমি কবে আমার পছন্দের পোশাক গুলো পরতে পারব?"
"আমার কবিতা লিখতে ভাললাগে, মাঝে মাঝে চুরি করে লিখি যেন মা দেখে না ফেলে, কিন্তু আমার খুব ইচ্ছে করে আমি বাবা, মা, দাদু, ফুপি সবাই কে দেখাই কিন্তু সাহস হয়না।"
"ফিজিক্স আমার একদম ভাললাগেনা, আর সেদিন নাম্বার কম পাওয়ায় মা যখন চৈতীর সামনে চড় মারল সেদিন থেকে বইটা দেখলেই আমার টুকরা টুকরা করে ফেলতে ইচ্ছে করে।"
"আমার এ বাড়ীতে একদম ভাল লাগেনা, আমাকে কেউ বোঝেনা কেউনা।"
"মাঝে মাঝে মন চায় দূরে কোথাও চলে যাই কিন্তু কোথায় যাব?"
" ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করেনা একটুও, ইস্ আমি যদি সকাল দশটা পর্যন্ত ঘুমতো পারতাম, যদি চাইলেই বস্তা বস্তা কবিতা লিখতে পারতাম, যদি বন্ধুদের সাথে
প্রিয় সিরিয়াল গুলা দেখতে পারতাম!"
"বাবা আজ ভাইয়াকে ল্যাপটপ কিনে দিয়েছে আমি বলেছিলাম আমাকে একটা মোবাইল কিনে দিতে, সিম লাগবেনা শুধু একটু গান শুনব,গেম খেলব, বাবা রাজী হলনা বলল সময় হলে দিবে, রেজাল্ট ভাল হলে দিবে কিন্তু আমি জানি দিবেনা কারন আনার রেজাল্ট ভাইয়ার মত ভাল হবেনা।"
"আমার ভীষন অস্থির লাগে, কিচ্ছু ভাললাগেনা।"
"আজ ক্লাস থেকে বের হয়ে পুরা একঘন্টা লাইব্রেরিতে বসে ছিলাম আমার ক্লাস করতে অসহ্য লাগে।"
"আমার খুব কান্না পায় খুব। "
"আজ চৈতী বলল আমি নাকি ডিপ্রেশন এ পড়েছি ওর এক কাজিনেরও এমন হতো ডাক্তার দেখিয়ে ছিল। আমাকে নিয়ে যাবে ডাক্তার এর কাছে। সুস্থ হয়ে গেলে নাকি আমার আবার সব ভাল লাগবে স্কুল,বন্ধু,পড়াশোনা,বাসা....সব"
"কাল মাকে মিথ্যা বলে টাকা নিয়েছি মা সন্দেহ করলেও টাকাটা দিয়েছে, আগামী পরশু ফুপি আসবে মা স্কুল থেকে আনতে যাবেনা তখন চৈতীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবো,খুব ভয় করছে। ইস্ মা যদি নিয়ে যেত আমাকে।"
"বাবা কে, মা কে অনেক ভালবাসী ওরাও আমাকে ভালবাসে কিন্তু ওরাতো জানেনা যে আমি কি করতে ভালবাসি ওরা শুধু জানে ওরা কি ভালবাসে ওরা আমাকে দিয়ে সেটাই করাতে চায় ওরা যা ভালবাসে। আমি তো আজকাল ভুলেই যাই যে আমি কি ভালবাসি।"
"আচ্ছা আমি যদি সবাই কে ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাই তাহলে কি মা, বাবা, দাদু, ভাইয়া কষ্ট পাবে,ওরা কি কাঁদবে আমার জন্য?"
"বাবার ড্রয়ার থেকে একটা ব্লেড নিয়েছি জ্যামিতি বক্সের ভেতর লুকিয়ে রেখেছি, এর পর যদি কোনদিন আমার গায়ে হাত তুলেনা আমি কিছু একটা করব অবশ্যই করব।"
আমি আর পড়তে পারিনা চোখের পানিতে ডায়েরীর পাতা গুলো ভিজে যেতে থাকে। বনি ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে আমি ডায়রিটা ওর হাতে দিয়ে রিশার ঘরে যাই।
অন্ধকার ঘরে রিশা ঘুমচ্ছো আমি ওকে জড়িয়ে ধরে শুই," হয়তবা অনেক দেরী করে ফেলেছি তা বলে কি একেবারেই দেরী হয়ে গেল রে মা?"
রিশা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, শেষ কবে মেয়ে কে এমন দৃঢ় আলিঙ্গন করেছি মনে করতে পারছিনা, তবে মাতৃত্ব কে অনুভব করতে পারছি, যে মাতৃত্ব শুধু সন্তানের সুখ ছাড়া কিছুই বুঝেনা। নিজের সন্তান কে অবচেতন মনে দূরে দিয়েছি কখন বুঝতেই পারিনি। না হল মেয়েটা আমার সবার সেরা, না হল সভ্য শান্ত, হল না হয় একটু দূরন্ত থাকল না হয় একটু পিছিয়ে তাতে কি খুব ক্ষতি হবে? বাঁচার মত করে না বেঁচে প্রতিনিয়ত একটু একটু করে শেষ হয়ে যাওয়া থেকে কি হেসে খেলে কৈশরটা ওকে কাটাতে দেওয়াটা কি আমার খুব অন্যায় হবে?
রিশা আমার কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে, "মা তুমি কি ভয় পেয়েছিলে? আমার না তোমাদেরকে ছেড়ে কোথাও যেতে ইচ্ছে করেনা, কষ্ট হয় মা, তোমার জন্য তোমাদের সবার জন্য...."
আমার বুকটা কেঁপে ওঠে।
আচ্ছা আজ যদি রিশা একটা ভুল করে বসত তাহলে আমরা হয়তবা ভাবতাম বাবা মায়েরাতো একটু শাসন করবেই তা বলে সুইসাইড?? অথচ আমি কিনা নিজের অজান্তেই...... একি করছি বাবা মা হয়ে সন্তান কে শেষ করে দিচ্ছি।
রিশার মত এমন হাজারো স্বেচ্ছায় হারিয়ে যাওয়া প্রাণ গুলোর ভেতরের গল্প আমাদের অজানাই রয়ে যায়। আমরা সুইসাইড টাই জানি সত্যটাকে জানিনা জানতে চাইওনা যে জীবন স্বেচ্ছায় গিয়েছে তাকে জেনে কি লাভ? এভাবেই লুকিয়ে থাকা ছোট ছোট হতাশা থেকে প্রতিনিয়ত তৈরী হয় নিত্য নতুন হারিয়ে যাবার সংবাদ। আর আমরা মেতে উঠি সেই ভুল করা মানুষটার ভুল গুলা ধরার কাজে।
আমি মেয়ের কপালের চুলগুলা সরিয়ে পরম আদরে চুমু খাই, না ভুল বললাম মেয়ের কপালে না, চুমু খাই আমি আমার সন্তানের কপালে।
#শাসন
#ছোটগল্প
#তারানা_তাবাসসুম

# এক্টিভ পোস্ট

Address

15/5, Bijoy Nagar
Dhaka
1000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801707033244

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বনলতা - Banalata posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to বনলতা - Banalata:

Share