মৃৎশিল্প প্রভা নকশা আঁকা মাটির কলস
বিকেলের হলুদ রোদে রোজই আসা কবিতার জল সময়
রোদ ঝিলিক মুখে লেগে থাকা হাসির আভা।
চোখময় রাখি চোখ কবিতার চোখাচোখি
ভাষা খোঁজে কত কথা চোখ ভাষায়
আগন্তুক একক্রোশ জল ছিটাই তার গায়ে
কত দিন শুকনো বিরান কলতলার পলেস্তারা শ্যাওলা মাটি
কবিতা মালো খুউব ভালো পায়ে মল অবিকল জল ঈশ্বরী
অন্তর্দ্বন্দ্ব কবিতা ছন্দ করে তোলপাড় বুকের পাঁজর!
হরপ্পা-মহেঞ
্জোদারো ভারত ও বাংলাদেশে পাওয়া বিভিন্ন প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে পুরাতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিভিন্ন ছাঁচের ও নানা আকারের হাঁড়ি, কলসি, সরা, মটকা, গেলাস, পেয়ালা, থালা বাটি চামচ, ঢাকনি ইত্যাদি পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিহার, বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, পুনে সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরে টেরাকোটার অনন্য সাধারণ কাজ এখনও অক্ষত রয়েছে। যা আমাদের মৃৎশিল্পের সোনালী অতীতের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোর অন্যতম বাহক মৃৎশিল্প। অনেকের মতে, ‘এটি শুধুমাত্র শিল্প নয়, আবহমান গ্রাম-বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য।’ মাটির নান্দনিক কারুকার্য ও বাহারি নকশার কারণে দেশে এর চাহিদা ব্যাপক। অনেকেই বংশগত পরম্পরায় দীর্ঘ সময় পার করে এ শিল্পের মাধ্যমে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় মাটির বাসন-কোসন, সরা, সুরাই, হাঁড়ি-পাতিল, পেয়ালা, মটকা, পিঠা তৈরির ছাঁচ ইত্যাদি তৈরি করে আসছেন। তবে কালের বিবর্তন ও প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতার কারণে এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশে জমিদারি তদারকির সময় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রীকে একটি চিঠিতে দূর থেকে গ্রামবাংলার নীরব ও মন্থরগতির বর্ণনা দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আমাদের দেশের মাঠ ঘাট আকাশ, রোদ্দুরের মধ্যে এমন একটা সুগভীর বিষাদের ভাব কেন লেগে আছে?’ তাঁর নিজের উত্তর ছিল, প্রকৃতির বিপুলতা: আকাশের সীমা নেই, সূর্য দারুণ তপ্ত, ‘অনন্তপ্রসারিত প্রকাণ্ড উদাসীন প্রকৃতি’র সামনে মানুষকে অতি সামান্য মনে হয়, তাদের কৃতকর্ম ঠুনকো ও অস্থায়ী হয়ে যায়।
যান্ত্রিক এ শহুরে জীবনে কাদামাটির রূপরস নিয়ে আপনাদের রুচিশীল শৈল্পিক মনের দ্বারে হাজির কর্দমার্ট ।