01/08/2026
(এক বোনের ওয়াল থেকে কপি করা পোস্ট!)
গত সপ্তাহে আমরা আল্লাহর রহমতে উমরাহ শেষ করে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরছিলাম।
প্লেনে আমার পাশের সিটে বসেছিলেন একজন বয়স্ক আন্টি। দেখে মনে হচ্ছিল গ্রামের মানুষ। কেবিন ক্রুরা যখন খাবারের বিষয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন, উনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। আমি যতটুকু পারি অনুবাদ করে দিচ্ছিলাম।
এক পর্যায়ে গল্প শুরু হলো।জিজ্ঞেস করলাম, “কোথা থেকে এসেছেন?”
বললেন, “গাজীপুর।”
তারপর জিজ্ঞেস করলাম, “কার সাথে এসেছেন?”
হেসে বললেন, “মহিলাদের একটা গ্রুপের সাথে।”
আরও জানতে চাইলে বললেন, ১৫ দিনের জন্য উমরাহ করতে গিয়েছিলেন।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “চাচা আসেননি?”
উনি খুব শান্তভাবে বললেন,
“আমরা শুধু একজনের যাওয়ার টাকা জোগাড় করতে পেরেছি। অনেক বছর ধরে মানুষের বাসায় কাজ করে, একটু একটু করে টাকা জমিয়েছি। আমার খুব ইচ্ছা ছিল আল্লাহর ঘরে যাওয়ার। আমার স্বামী বলেছে, তোমার নিয়ত এত দিনের, তুমি যাও। আমরা হুজুরের সাথে কথা বলেছি। উনি বলেছেন, মহিলাদের গ্রুপের সাথে যেতে পারবে।”
অনেক কৌতূহল নিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কী কাজ করেন?”
উনি বললেন,“আমি মানুষের বাসায় কাজ করি।”
এক মুহূর্তের জন্য আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম।
এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা।
মানুষের বাসায় কাজ করে, বছরের পর বছর ধরে একটু একটু করে জমিয়ে, শুধু একটা স্বপ্নের জন্য…
আল্লাহর ঘরে যাবেন।
তারপর উনি আরেকটা কথা বললেন।
এই ১৫ দিনে তিনি ৪টি উমরাহ করেছেন, আর ৬ বার তাওয়াফ করেছেন।
আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি।চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছিল।
আমরা তো মাত্র এক সপ্তাহ ছিলাম। জুলাই মাসের প্রচণ্ড গরমে একটা উমরাহ করেই মনে হয়েছিল, আলহামদুলিল্লাহ, অনেক কষ্ট করেছি। আল্লাহ কবুল করুন।
আর এই মানুষটা?
৬০ বছরের কাছাকাছি বয়স। মানুষের বাসায় কাজ করেন। বছরের পর বছর টাকা জমিয়েছেন। তারপর সেই গরমে ৪টা উমরাহ, ৬টা তাওয়াফ!
আমি শুধু ভাবছিলাম…
আল্লাহ তাঁর কোন আমলটা এত পছন্দ করেছেন?
কেন তাঁকে এই তাওফীক দিলেন?
আর আমাকে, এত সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও, আল্লাহর ঘরে পৌঁছাতে কত বছর অপেক্ষা করতে হলো?
সেদিন মনে হয়েছিল…
এই পৃথিবীতে আল্লাহ আছেন, তিনি তাঁর বান্দাদের দেখেন, তাঁদের নিয়ত জানেন, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আমার আর কী দরকার?
আমরা মানুষ শুধু বাহ্যিকটা দেখি।
আল্লাহ দেখেন হৃদয়।
তাই একটা কথা বলব…
যদি আপনার খুব ইচ্ছা থাকে উমরাহ বা হজে যাওয়ার, তাহলে আজ থেকেই আল্লাহর কাছে নিয়ত করুন। খুব শক্ত করে নিয়ত করুন। আপনি হয়তো নিজেকে অনেক অপূর্ণ মনে করেন। মনে হতে পারে, “আমি তো ভালো মানুষ না”, “আমি গেলে কী হবে?”, “মানুষ কী বলবে?”, “গিয়ে এসে যদি নিজেকে ধরে রাখতে না পারি?”
এসব কথা শুনবেন না।
কে কী ভাবল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না।
আল্লাহ যদি ডাক দেন, সেই ডাকই সবচেয়ে বড় সম্মান।
উমরাহ শুধু একটা সফর না। এটা এমন একটা যাত্রা, যা মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দিতে পারে।
হয়তো আপনি নিখুঁত নন।
আমিও নই।
কিন্তু আল্লাহ হয়তো আপনার নিয়তটাই ভালোবেসে ফেলবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন।