12/11/2025
একজন শিক্ষক আর একজন সৈনিক, একজন মানুষ গড়েন, আরেকজন সেই মানুষ আর দেশকে রক্ষা করেন।দু’জনেই জাতির প্রাণ,কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সম্মান আর প্রাপ্যের পাল্লা।
আজ শিক্ষক আছেন ১৩তম গ্রেডে, বেসিক ১১,০০০ টাকা।আর সীমান্ত পাহারা দেওয়া সৈনিক পড়ে আছেন ১৭তম গ্রেডে, বেসিক ৯,০০০ টাকায়।কোনো সরকারি ছুটি নেই,সপ্তাহে ৭ দিনই দায়িত্ব, দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ।তার উপর সকালবেলার পিটি, প্যারেড, গেমস, ওয়ার্কিং এ যেন বিশ্রামহীন এক জীবন।
আর ছুটি? ৩ মাসে একবার হয়তো বাড়ি ফেরা যায়,
তাও দায়িত্ব আর অনিশ্চয়তার মাঝেই। কেননা এই পেশায় অফিস টাইম শেষ হয় না, শেষ হয় শুধু একটাই জিনিস জীবন।
অন্যদিকে শিক্ষক সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করেন,বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় দিবসে ছুটি পান,পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন,আর সেই সময় দেশের সীমান্তে সেই সৈনিকই পাহারায় থাকে, যাতে সবাই নিরাপদ থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো আমরা শিক্ষককে অবমূল্যায়ন করছি না,বরং শ্রদ্ধা জানাই সেই মানুষদের,যারা নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলছেন। কিন্তু একজন সৈনিকও তো সেই প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন তাহলে কেন মর্যাদার এত তফাৎ?
শিক্ষকরা এখন ১০ম গ্রেড চান,আমরা তার বিরোধী না,
কিন্তু সৈনিকরা কেন সারাজীবন ১৭তম গ্রেডে থেকেই মর্যাদা হারাবে? যেখানে অধিকাংশ সৈনিকই এখন অনার্স/ডিগ্রি পাশ,অনেকে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত।
যোগ্যতায়, পরিশ্রমে, দায়িত্বে তাদের অবস্থান যে অনেক উপরে, সেটা কি রাষ্ট্র ভুলে গেছে?
আমরা শুধু চাই ইনসাফ যেন যে হাতে দেশের অস্ত্র,
যে ঘামে সীমান্ত ভিজে যায়,যে হৃদয়ে পতাকা বয়ে চলে তার প্রাপ্য মর্যাদা যেন রাষ্ট্র স্বীকার করে নেয়।
শিক্ষক মানুষ গড়েন, সৈনিক দেশ রক্ষা করে এই দুই কারিগর একে অপরের পরিপূরক,কেউ ছোট নয়, কেউ বড় নয়,তবে বৈষম্যের বোঝা যেন শুধু এক কাঁধে না পড়ে 🇧🇩