11/07/2026
ইন্টার্নশিপ ডায়েরি: প্রথম ৭ দিন 😄
প্রথম দিনের সকালেই ছোট্ট একটা প্লট টুইস্ট! 😅
প্রথমে গিয়েছিলাম Head Office-এ। মনে মনে ভেবেছিলাম, এখান থেকেই শুরু হবে আমার ইন্টার্নশিপের গল্প। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন অভিজ্ঞতা—সবকিছু ধীরে ধীরে চিনে নেওয়া হবে।
কিন্তু অফিস টাইমের মধ্যেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত হলো, আমাকে Banani Branch-এ শিফট করা হবে।
মনে হলো, “আচ্ছা… জীবন তাহলে প্রথম দিন থেকেই নিজের মতো করে গল্প লেখা শুরু করে দিল!” 😄
ভাবছিলাম, হয়তো প্রথম দিন একটু পরিচয়পর্ব হবে। সবাইকে চিনব, কাজ বুঝব, তারপর আস্তে আস্তে দায়িত্ব নিতে শুরু করব।
কিন্তু বাস্তবতা মাঝে মাঝে নিজের মতো করে চমক দিতে ভালোবাসে।
ব্যাংকে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেকে ফ্রন্ট ডেস্কে বসে কাস্টমার সার্ভিস দিতে দেখলাম! 😶
মনে মনে শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরছিল—
“এক মিনিট… আমার ট্রেনিংটা কি একটু বেশি দ্রুত হয়ে গেল?” 😂
এরপরের কয়েকদিনের গল্পটা অনেকটা এমন—
📄 “এটা প্রিন্ট করে আনো।”
🔖 “এখানে স্ট্যাম্প দাও।”
💳 “চেকবুকটা খুঁজে দাও।”
📂 “ডেবিট কার্ডটা বের করো।”
আর আমি?
কোন ফাইল কোথায়, কোন ডেস্কে কী আছে—সবকিছুই তখন আমার কাছে একটা ছোটখাটো রহস্যের মতো লাগত। মনে হতো, অফিসের ভেতরেই বুঝি একটা ট্রেজার হান্ট চলছে!
ভুলও করেছি। অনেক ছোটখাটো honest mistake হয়েছে।
কিন্তু একটা বিষয় বুঝেছি—ভুল করার সুযোগ না পেলে শেখার সুযোগও আসে না।
মজার বিষয় হলো…
প্রথম দিন ছিল—
“আমি কোথায় চলে এলাম?”
তৃতীয়-চতুর্থ দিন—
“আমি এখানে কেন?” 🤦🏻♀️
আর সপ্তম দিনে এসে—
“আচ্ছা… যা আছে, শিখেই ফেলি।”
এই এক সপ্তাহে একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝেছি—
কোনো কাজই ছোট নয়।
কোনো অভিজ্ঞতাই বৃথা যায় না।
হয়তো আজ প্রিন্ট করছি, স্ট্যাম্প দিচ্ছি, ফাইল খুঁজছি কিংবা কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। কিন্তু প্রতিটি ছোট কাজই আসলে আমাকে একটু একটু করে শেখাচ্ছে—দায়িত্ব কী, ধৈর্য কী, মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, আর কর্মজীবনের বাস্তবতা কেমন।
আর একটা জিনিস…
ব্যাংকে সময় যে এত দ্রুত চলে যায়, সেটা এখানে না এলে বুঝতেই পারতাম না। এত কাজের ভিড়ে কখন সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না।
ইন্টার্নশিপের মাত্র ৭ দিন।
গল্পটা এখনও শুরু হয়েছে।
দেখি, পরের অধ্যায়ে জীবন আর কী কী গল্প জমিয়ে রেখেছে। 😊