15/07/2026
আলহামদুলিল্লাহ ❤️❤️❤️নিচে পুরো ইমেইলটির বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো:
সম্মানিত পুরস্কার নির্বাচন কমিটি,
আমি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে **আনসাং উইমেন নেশন বিল্ডার্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬**-এর জন্য **আসমা আখতারকে** মনোনীত করার উদ্দেশ্যে লিখছি। আন্তরিকভাবে আশা করছি, তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য আমি খুব বেশি দেরি করে ফেলিনি।
অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে আমি প্রথম আসমার কথা জানতে পারি। ভিডিওটিতে তাঁর জীবনের অকল্পনীয় দুঃখ-কষ্ট ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। তিনি একটি অত্যন্ত নির্যাতনমূলক দাম্পত্য জীবনের শিকার হয়েছিলেন, যেখানে তাঁকে প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে তাঁর দুই ছোট সন্তানসহ রাস্তায় বের করে দেওয়া হয়। অল্প খাবার, কোনো আর্থিক সহায়তা না থাকা এবং খুব সামান্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে তাঁকে নিজের ও সন্তানদের বেঁচে থাকার জন্য দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আসমা হাল ছেড়ে দেননি। তিনি অল্প অল্প করে টাকা সঞ্চয় করে একটি সাইকেল কিনেছিলেন, নিজে সাইকেল চালানো শিখেছিলেন এবং সেই সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত শুরু করেছিলেন। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে তিনি মানুষের ফেলে দেওয়া বিভিন্ন উপকরণ পুনর্ব্যবহার করে গয়না, ঘর সাজানোর সামগ্রী এবং অন্যান্য সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য জিনিস তৈরি করে একটি ছোট ব্যবসা গড়ে তুলেছেন।
তাঁর গল্পকে আরও অসাধারণ করে তুলেছে এই বিষয়টি যে, তিনি এসব পণ্য তৈরিতে সহায়তা করার জন্য আরও কয়েকজন নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ও তাঁদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার সুযোগ পাচ্ছেন। আসমা শুধু নিজের জীবনই নতুনভাবে গড়ে তোলেননি; তিনি অন্য নারীদেরও আরও মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাবলম্বী জীবন গড়তে সহায়তা করছেন।
ব্যবসাটি গড়ে তোলার পথে তাঁকে চরম শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। বাংলাদেশের বৃষ্টি ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তিনি হাতে তৈরি গয়নার ঝুড়ি নিয়ে ব্যস্ত রাস্তার পাশে এবং পথচারীদের চলাচলের স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেছেন। কখনো কখনো সামান্য কিছু পণ্য বিক্রি করার আশায় তাঁকে সারাদিন কাজ করতে হয়েছে। তাঁর শক্তি, সৃজনশীলতা, সাহস এবং অধ্যবসায় সত্যিই অসাধারণ।
আমার কাছে আসমা এমন একজন নির্ভীক নারীর প্রতীক, যিনি নীরবে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর পাশে কোনো ধনী পৃষ্ঠপোষক ছিল না, ঋণ পাওয়ার সুযোগ ছিল না, প্রভাবশালী যোগাযোগ ছিল না এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগও ছিল না। দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে তিনি নিজের, তাঁর সন্তানদের এবং বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কাজ করা নারীদের জন্য অর্থবহ কিছু গড়ে তুলেছেন।
তাঁর গল্প দেখার পর আমি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি যে বাংলাদেশের নারীরা কতটা দৃঢ়, সাহসী এবং সক্ষম। আসমার মতো নারীদের জন্য আমি নিজেকে বাংলাদেশি বলতে গভীরভাবে গর্ববোধ করি। বাংলাদেশে অনেক ধনী ও প্রভাবশালী মানুষ থাকতে পারেন, কিন্তু আসমার মতো সাহসী তৃণমূল উদ্যোক্তারাই দেশের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেন এবং নিজেদের সমাজে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেন।
নিচের ভিডিও ও নিবন্ধগুলোতে আসমা এবং তাঁর অসাধারণ জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে:
**ভিডিও: সাইকেল চালিয়ে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলা নারী উদ্যোক্তা আসমা আক্তার**
[https://www.youtube.com/watch?v=VIHTi_Qz-r8](https://www.youtube.com/watch?v=VIHTi_Qz-r8)
**কালবেলা ভিডিও: “সাইকেল যোদ্ধা আসমার গল্প”**
[https://www.youtube.com/watch?v=Y9vPCUtlt5U](https://www.youtube.com/watch?v=Y9vPCUtlt5U)
**দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড: “The Flower of Scrap: How Asma Built a Life from What Others Discarded”**
[https://www.tbsnews.net/features/panorama/flower-scrap-how-asma-built-life-what-others-discarded-1218871](https://www.tbsnews.net/features/panorama/flower-scrap-how-asma-built-life-what-others-discarded-1218871)
আমি ব্যক্তিগতভাবে আসমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আপনারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে বাংলাদেশে তাঁর ফোন নম্বর হলো:
**আসমা আখতার:** ০১৬৪৮-৮৯৩৬৪৫
আমার যোগাযোগের তথ্য:
**রিজওয়ানা সোলিয়ার্ড**
পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
**হোয়াটসঅ্যাপ:** +১ ৭১৭-৪৪৬-৯৭৭১
**ইমেইল:** [[email protected]](mailto:[email protected])
আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আপনারা যেন **আনসাং উইমেন নেশন বিল্ডার্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬**-এর একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আসমা আখতারকে বিবেচনা করেন। নির্যাতন, গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে একজন উদ্যোক্তা হওয়া এবং অন্য নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার তাঁর যাত্রা সাহস, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায়ের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।
আপনাদের সময় এবং আন্তরিক বিবেচনার জন্য ধন্যবাদ।
বিনীত,
রিজওয়ানা সোলিয়ার্ড
পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক নামটি ইংরেজিতেও বন্ধনীর মধ্যে যোগ করা যেতে পারে, যাতে নির্বাচন কমিটির কাছে আবেদনটি সহজে শনাক্তযোগ্য হয়।
সাইকেল চালিয়ে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন নারী উদ্যোক্তা আসমা আক্তার!...