23/05/2026
আরাফার দিন হল দু'আর দিন! দুয়া কবুলের দিন!
এটুকু তো সবাই জানেন, তাই এ ব্যাপারে লিখতেছি না। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, কি দুয়া করবো? কিছু তো মাথায় আসে না।
এই আরাফার দিন আবার ৩৫৯/৩৬০ দিন পরে আসবে। অতএব এই দিনকে হারানো যাবে না। বেশি বেশি দোয়া করতে হবে, চোখের পানি ফেলে করতে হবে, চোখে পানি না আসলে কান্নার ভান করতে হবে।
আরাফার দিনের সবচেয়ে উত্তম দু’আ—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। সমস্ত রাজত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সবকিছুর উপর সক্ষম।”
রাসূল ﷺ বলেন, "আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যেটা এই দিনে বলেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দোয়া এটাই।" (তিরমিযি)
এই একটি মাত্র আরবি দুয়া যেটি আপনি একদম ঠোটস্থ করে নিন অর্থসহ।
এছাড়া অন্যান্য আরবি দুয়া যদি আপনার স্পষ্টভাবে অর্থসহ মূখস্থ থাকে এবং আপনি যদি সেগুলো পড়তে চান, তবেই কেবল পড়বেন। অন্যথায় মোনাজাতে বা নামাজে এমন দুয়া পড়বেন না যার অর্থ আপনি জানেন না।
আপনি কি চাইতেছেন আল্লাহর কাছে — সেটা যদি আপনি না জানেন — তাহলে রিডিং পড়ে লাভ আছে?
তবে নামাজ/মোনাজাতের বাইরে অর্থ দেখে আরবি দুয়া পড়তে পারেন। হিসনুল মুসলিমে অনেক দুয়া পাবেন।
তো আমার উপদেশ/রিকমেন্ডেশন হলো যে আপনারা নিজ ভাষায় দুয়া করুন।
আমার একটা কলম চাই থেকে শুরু করে আমার হাতের রান্না সুস্বাদু করে দিন! আমাকে সুন্দরী করে দিন থেকে শুরু করে আমাকে স্বামী সোহাগী করে দিন— সবকিছু এমন ভাষায় চান যেই ভাষা আপনি বুঝেন।
যে ভাষা আপনি বুঝতেছেন না সেই ভাষায় আবেগ আসবে না। আর এই আবেগ আর তাওয়াক্কুল দুয়া কবুলে অনেক অবদান রাখে।
এখন প্রশ্ন হলো নিজ ভাষায় কি চাইবো? দুয়া করার সময় তো মনে থাকে না।
উত্তর হলো, এতো ভাবার দরকার নেই। যা মনে আসবে তা-ই চাইবেন। সারাদিনই তো আছে। মোনাজাত শেষে যদি মনে পড়ে যে আরেকটা জিনিস চাওয়া বাকি রইছে, তবে আবার মোনাজাত ধরে সেটা চেয়ে নিবেন।
এক জিনিস বারবার চাইবেন। রসুল ﷺ এক দুয়া ৩ বার করতেন।
⚪ কি কি চাওয়া যায়?
আচ্ছা, আরাফার দিনে দুয়া করলেই শেষ?
এর পরে আর দুয়া করতে চান না আপনি? — অবশ্যই চান! তাহলে আজীবন দুয়া করার তৌফিক চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। কিন্তু হিদায়াত না থাকলে তো এই তৌফিক হবে না। আর এই হিদায়াতের পথে মূল বাধা হচ্ছে গুনাহ!
তাই নিজের গোনাহ ও আত্মার সংশোধনের জন্য দুয়া করতে হবে।
হে আল্লাহ, আমার সব গোনাহ মাফ করে দিন, গোপন ও প্রকাশ্য।
হে আল্লাহ, আমার অন্তরকে শুদ্ধ করে দিন— আমাকে রিয়া, হিংসা, অহংকার ও সব নেগেটিভিটি থেকে বাঁচান।
হে আল্লাহ, আমাকে হিদায়াতে রাখুন, হিদায়াতের উপর মৃত্যু দিন।
হে আল্লাহ, দুনিয়াতে যা কিছু চাই তা একটা জুতার ফিতা হলেও তা আপনার কাছে চাওয়ার তৌফিক দিন আজীবন।
হে আল্লাহ, ইবাদাতকে আমার অক্সিজেনের মতো করে দিন— যেটা ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। এবং ইবাদাতকে আমার জন্য সহজ করে দিন।
নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য চাইতে হবে—
হে আল্লাহ, আমার দুনিয়াও সুন্দর করে দিন, আর আখিরাতও! এবং আমাকে কষ্টের জায়গা থেকে সরিয়ে শান্তির জায়গায় রাখুন।
হে আল্লাহ, আমাকে এমন জীবন দিন, যেটা আপনাকে সন্তুষ্ট করে।
হে আল্লাহ, কিয়ামতের দিন যেন আমার মুখ উজ্জ্বল হয়, আমলনামা ডানে আসে।
হে আল্লাহ, আমাকে মেধাবী করে দিন এবং সুন্দরীও করে দিন।
হে আল্লাহ, আমার চেহারা এবং আচরন উভয়ই এমন করে দিন যা সকলকে আফিয়্যাতের সাথে আকৃষ্ট করবে।
জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে হবে—
হে আল্লাহ, আমাকে জান্নাতুল ফিরদাওস দান করুন ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।
হে আল্লাহ, আমাকে কবরের আযাব ও কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদে রাখুন।
পরিবার, স্বামী/স্ত্রী ও ভবিষ্যতের জন্য চাইতে হবে—
হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সুখ দিন, ক্ষমা করুন। এবং আমার শশুড় শাশুড়ীকেও।
হে আল্লাহ, আমার স্বামী/স্ত্রীকে আপনার প্রিয় বান্দা/বান্দি হিসেবে কবুল করুন।
হে আল্লাহ, আমাদের স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা যেন আপনাকে ঘিরে হয়।
হে আল্লাহ, আমাদের স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের চক্ষু শীতলকারী ও অন্তর প্রশান্তকারী করে দিন।
হে আল্লাহ, আমাদের ঘরে বরকত দিন, দ্বীনের আলো দিন।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে নেককার সন্তান দিন! পুত্র এবং কন্যা উভয়ই।
রিজিক ও চাহিদার জন্য দুয়া করবেন—
হে আল্লাহ, হালাল রিজিক দিন এবং তাতে বরকত দিন।
হে আল্লাহ, দারিদ্র্যতা দূর করুন ও দারিদ্র্যতা দিবেন না।
হে আল্লাহ, অভাবে যেনো ইমান না হারাই আর আধিক্যে যেনো অহংকারী না হই।
ইলম, ইবাদত ও দ্বীনের জন্য চাইবেন—
হে আল্লাহ, আমাকে কুরআনের সাথী বানান।
হে আল্লাহ, আমাকে নামাজের মধুরতা বুঝার তাওফিক দিন! খুশু খুযু সহকারে সকল আমল করার তৌফিক দিন।
হে আল্লাহ, আমার দিনগুলোকে ইবাদতের জন্য বরকতময় করে দিন, আমার সময়ে বারাকাহ দিন।
হে আল্লাহ, আমাকে সহিহ ইলম দিন। আমার জন্য ইলম অর্জনকে সহজ করে দিন।
হে আমার রব! হে আরশের মালিক! হে আসমান জমিন ও এর মাঝে যা আছে সবকিছুর মালিক—
আপনি জানেন আমি কতটা অক্ষম… আমায় পথ দেখান।
হে আল্লাহ! আমি হয়তো বারবার ফিরে যাই গোনাহে, কিন্তু আমি আপনাকেই ভালোবাসি।
হে আল্লাহ! আমি আপনি ছাড়া আর কারো কাছে চাই না, তাই আমাকে ফেলে দেবেন না।
হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া আমার কোনো দয়ার দরজা নেই, তাই আমার দোয়া কবুল করুন।
হে আল্লাহ! আমি জানি না, আমি জান্নাতের উপযুক্ত কি না, তবুও আপনার জান্নাত চাই।
হে আল্লাহ, আপনার কাছে আমি আপনাকেই চাই বারবার!
হে রব, যদিও আমি অযোগ্য, তবে আপনি দয়াময়!
কোনো শর্ত নেই, আপনি চাইলে কাঁদতে কাঁদতে নিজের মনের ভাষায় দোয়া করতে পারেন।
মনে যা আছে, সব খুলে বলুন।
নিজেকে ছোট, অক্ষম, গোনাহগার ভেবে বলুন।
দুয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পড়ুন।
বারবার বলুন: “হে আল্লাহ, আপনি কবুল করে নিন।”
গোপনে, ভাঙা হৃদয়ে, চোখের পানি ফেলে বলুন।
বারবার একই দোয়া করুন, একঘেয়েমি ভাববেন না। একটু পরপর করুন।৷
বারবার বলুন —হে আল্লাহ, কবুল করে নিন! হে আল্লাহ, কবুল করে ন
এবং অবশ্যই অবশ্যই আপনার এই বোনটিকে আপনার দুআ মধ্যে স্মরণ করবেন 🤲🏻