C-town

C-town Original import products https://www.instagram.com/_c_town/

31/07/2026

#কালো_তাবিজ: যে বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ংকর রহস্য

“বিয়ের সাত দিনের মাথায় ওর চোখ দুটো বদলে গেল…”

নীলা আর মায়া—দুজনের বন্ধুত্ব ছিল পুরো এলাকায় উদাহরণ। স্কুল, কলেজ, ঘুরতে যাওয়া, শপিং, এমনকি ভবিষ্যতের স্বপ্নও তারা একসঙ্গে দেখত। সবাই বলত, একজনকে ছাড়া আরেকজনকে কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু মানুষ যা দেখে, তার পেছনে যে আরেকটা গল্প লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটা কেউ জানত না।

মায়া অনেক বছর ধরেই নীলার হবু স্বামী রায়হানকে মনে মনে পছন্দ করত। কিন্তু কোনোদিন কাউকে বলেনি। কারণ সে জানত, রায়হান শুধু নীলাকেই ভালোবাসে। তাই নিজের অনুভূতিটা সে বুকের ভেতর চাপা দিয়েই রেখেছিল।

কয়েক মাস পর নীলা আর রায়হানের বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের দিন সবাই খুব আনন্দ করছিল। মায়াও সারাক্ষণ নীলার পাশেই ছিল। হাসছিল, ছবি তুলছিল, অতিথিদের দেখাশোনা করছিল। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায়ই ছিল না, তার ভেতরে কী ঝড় চলছে।
তবে একটা ছোট্ট ঘটনা সেদিন কারও নজরে পড়েনি।

রায়হান যখন স্টেজ থেকে নেমে অতিথিদের সঙ্গে দেখা করছিল, তখন তার রুমালটা অসাবধানতায় চেয়ারের ওপর পড়ে যায়। চারপাশে কেউ না থাকায় মায়া চুপচাপ সেটা তুলে নিজের ব্যাগে রেখে দেয়। কয়েক সেকেন্ডের ঘটনা। কেউ খেয়াল করেনি।

বিয়ের পর প্রথম কয়েকদিন সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। নীলা ভাবছিল, তার নতুন জীবনটা বুঝি স্বপ্নের মতোই সুন্দর হবে। কিন্তু ঠিক সাত দিনের মাথায় সবকিছু বদলে যেতে শুরু করল।

রায়হান আগের মতো কথা বলত না। অফিস থেকে ফিরে একা একা বসে থাকত। নীলা কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু ছোট ছোট উত্তর দিত। মাঝরাতে কয়েকবার নীলার ঘুম ভেঙে যায়। সে দেখে, রায়হান বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে কী যেন বিড়বিড় করছে। এক রাতে নীলা চুপচাপ তার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল।

রায়হান খুব আস্তে আস্তে বলছিল,
“আমি আসছি… তুমি যেখানেই ডাকো, আমি আসছি…”

কিন্তু বারান্দার ওপাশে কেউ ছিল না। পরদিন সকালে বিছানা গুছাতে গিয়ে নীলার হাত একটা ছোট কালো কাপড়ে মোড়ানো জিনিসে লাগে। খুলে দেখতেই ভেতরে একটা অদ্ভুত তাবিজ। তাবিজটার সঙ্গে লাল সুতা পেঁচানো, আর তার ভেতর থেকে হালকা পোড়া গন্ধ বের হচ্ছিল। নীলা ভেবেছিল, হয়তো কেউ ভুল করে রেখে গেছে। কিন্তু শাশুড়ি তাবিজটা দেখেই একদম চুপ হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর কাঁপা গলায় বললেন,
এই তাবিজ আমাদের বাড়ির নয়, আর এটা শুভ কিছুও নয়।

কথাটা শুনে নীলার বুক ধক করে উঠল। সেদিন বিকেলে মায়া হঠাৎ তাদের বাড়িতে এল। আগের মতোই হাসিমুখে নীলার সঙ্গে গল্প করল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রায়হান সারাক্ষণ শুধু মায়ার দিকেই তাকিয়ে ছিল। এমনভাবে তাকিয়ে ছিল, যেন ঘরে আর কেউ নেই।
বিদায় নেওয়ার সময় নীলা লক্ষ্য করল, মায়া চুপিচুপি রায়হানের হাত ছুঁয়ে দিল। সেই মুহূর্তে রায়হানের চোখের দৃষ্টি কেমন যেন বদলে গেল…

আর তখনই নীলার মনে প্রথমবারের মতো প্রশ্ন জাগল—

এটা কি শুধু কাকতালীয়… নাকি সত্যিই কেউ কালো জাদুর মাধ্যমে তার সংসারটা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে?

চলবে…

29/07/2026

#অন্তর_অভিমান৷ (শেষ পর্ব )

দরজা খুলতেই আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল।

কিন্তু তারও বড় ধাক্কাটা খেলাম ভেতরে ঢুকে।
ড্রয়িংরুমে কয়েকটা কার্টন গুছিয়ে রাখা। মেহরিন শান্ত মুখে সোফায় বসে আছে। পাশে তার মামা। আর আরেকজন ভদ্রলোক কালো কোট পরে ফাইল হাতে বসে আছেন।
আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভদ্রলোক শান্ত গলায় বললেন, আপনারা এসেছেন ভালো হয়েছে। আমরা শুধু মেহরিনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আর ওর কিছু প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে যাব। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিচ্ছি... মেহরিন আর আপনার বাসায় ফিরছে না।

মা সঙ্গে সঙ্গে রেগে উঠে বললেন, আপনি আবার কে? আমাদের পারিবারিক ব্যাপারে কথা বলছেন কেন?

ভদ্রলোক কোনো রাগ না দেখিয়ে পকেট থেকে একটি পরিচয়পত্র বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।

— আমি অ্যাডভোকেট মাহতাব হোসেন। মেহরিনের আইনজীবী।

তারপর ফাইল খুলে একে একে বলতে শুরু করলেন,
এখানে একটি সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্ট আছে। সেখানে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মুখে আঘাতের চিহ্নও উল্লেখ আছে।

তিনি আরেকটি কাগজ বের করলেন। এটাও চিকিৎসকের রিপোর্ট। সন্তান জন্মের পর জোর করে অনুপযুক্ত খাবার খাওয়ানোর কারণে তার শারীরিক জটিলতা এবং দুধের নালিতে তীব্র প্রদাহের বিষয়টি এখানে উল্লেখ রয়েছে।

আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল।

তিনি থামলেন না।

— আর এটি... বৈবাহিক নির্যাতনের কারণে তালাকের আবেদন। পাশাপাশি বিবাহের সময় দেওয়া জিনিসপত্র ফেরত চেয়ে আইনগত নোটিশ।

মুহূর্তের মধ্যে আমার চারপাশটা ঝাপসা হয়ে গেল।
আমি কী করি, কোথায় চাকরি করি, সমাজে আমার সম্মান—সবকিছু যেন এক নিমিষে অর্থহীন হয়ে গেল।

আমি শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম।

মাথার ভেতর একটাই দৃশ্য ঘুরছিল।

সেই রাত...

যেদিন মেহরিন ব্যথায় ছটফট করছিল।

মুখ চেপে কান্না লুকাচ্ছিল।

আর মা বলেছিলেন,

— "এগুলো কিছুই না। একটু কষ্ট তো হবেই।"

আজ বুঝলাম...

আমি অফিসে বের হওয়ার পরদিনই মেহরিন হাসপাতালে গিয়েছিল।

একবারও আমাকে কিছু বলেনি।

চুপচাপ সব সহ্য করেছে।

সব প্রমাণও রেখে দিয়েছে।

মা তখনও আগের মতোই গলায় জোর এনে বললেন,

— একটা চড় মারছি, তাই বলে সংসার ভেঙে দেবে? মানুষ করতে গেলেও কি এখন অপরাধ? এতদিনের সংসার একটা ঘটনা দিয়ে শেষ হয়ে যাবে নাকি?

এতক্ষণ চুপ করে থাকা মেহরিন এবার ধীরে মুখ তুলল।
দুই সপ্তাহ পর এই প্রথম ওর কণ্ঠ শুনলাম। গলাটা খুব শান্ত। কিন্তু সেই শান্ত কণ্ঠের ভেতরে ছিল ভাঙা বিশ্বাসের ভার। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আদালতের মামলা দীর্ঘ হয়, যখন একজন নারী স্বামীর কাছ থেকে সবকিছু আদায় করতে চান। কিন্তু আমি আপনার ছেলের কাছ থেকে কিছুই চাই না।

ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

মেহরিন আবার বলল, আমার প্রাপ্য যেগুলো আছে, সেগুলোর অনেকটাই আমি ছেড়ে দিচ্ছি। আমি শুধু আমার মেয়ের অধিকারটুকু চাই। আইন যেটুকু নির্ধারণ করবে, সেটুকুই।
তারপর...
সে ধীরে ধীরে আমার দিকে তাকাল।
সেই দৃষ্টি আগের চেয়েও ভারী।

— জানেন, আমি গরুর পায়ার ঝোলকে ঘৃণা করিনি। একটু থেমে বলল, আমি ঘৃণা করেছি আপনাকে।

আমার বুকটা কেঁপে উঠল।

মেহরিন বলতে লাগল, যেদিন আপনার মায়ের হাতে চড় খেলাম, সেদিন প্রথমে আমি আপনার দিকেই তাকিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, আমার স্বামী আমার পাশে দাঁড়াবে। অন্তত বলবে, এটা ভুল হয়েছে।
ওর গলাটা কেঁপে উঠলেও চোখের পানি পড়ল না।
কিন্তু আপনি কী বলেছিলেন মনে আছে?
আমি মাথা নিচু করে ফেললাম।
কারণ কথাটা আমি আজও ভুলিনি।

"আজকের মতো খেয়ে ফেলো, বিষয়টা শেষ করো।"

মেহরিন ধীরে বলল,ওই একটাই বাক্য আমার সমস্ত সম্মান ভেঙে দিয়েছিল। আপনার মায়ের চড়ে আমার গাল কয়েকদিন ব্যথা করেছে। কিন্তু আপনার কথাটা আমার আত্মসম্মানকে চিরদিনের জন্য ভেঙে দিয়েছে।আমি সেই অপমান কোনোদিন ভুলতে পারব না।

আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। হাঁটু গেড়ে বসে পড়লাম। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল। মামা, আইনজীবী, মা... কেউকে তখন আর দেখতে পাচ্ছিলাম না।
শুধু সেই মেয়েটাকেই দেখছিলাম... যে একদিন আমার হাত ধরে নিজের বাবার বাড়ি ছেড়ে এসেছিল। যে আমার সুখে হাসত। দুঃখে পাশে দাঁড়াত। আর আমি... সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়াতে পারিনি…….

ছয় মাস পর আদালতের রায়ে আমাদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন হলো।

মেহরিন নিজের জীবন নতুন করে গুছিয়ে নিল।

আমিও প্রতিমাসে মেয়ের দায়িত্ব পালন করতাম, কিন্তু বাবা হওয়ার অধিকার কাগজে লেখা থাকলেও, তার শৈশবের প্রতিটি মুহূর্তে পাশে থাকার অধিকার আমি নিজের ভুলেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। নীরবে মেয়ের ছোট্ট একটা ছবি হাতে নিয়ে ভাবি—

সেদিন যদি একবার শুধু বলতাম,

“মা, আপনি ভুল করেছেন। আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তুলবেন না।”

হয়তো আজও আমাদের ঘরটা ভাঙত না।

🌸 আজকের গল্প এখানেই শেষ।

শেষকথা: একজন স্বামী বা স্ত্রীকে হারানোর শুরু হয় সবসময় বড় কোনো ঘটনার মাধ্যমে নয়; অনেক সময় তা শুরু হয় প্রিয় মানুষের নীরবতার মধ্য দিয়ে। অন্যায়ের সময় যে পাশে দাঁড়াতে পারে না, সে পরে হাজারবার ক্ষমা চাইলেও হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে না।

ভালো লেগে থাকলে পেজটি ফলো করে আমাদের সাথেই থাকুন।
ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল সন্ধ্যায় আবার দেখা হবে নতুন একটি অনুভূতির গল্প নিয়ে। ❤️

29/07/2026

আমার মা আমার স্ত্রীর গালে সবার সামনে চড় মেরেছিল। তখনও সে সদ্য সন্তান জন্ম দিয়েছে।

কারণ? এক বাটি গরুর পায়ার ঝোল।

আমি ভেবেছিলাম, আমার স্ত্রী হয়তো রাগ করবে, দু-একদিন কথা বলবে না, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেদিন সে যা করেছিল, তা শুধু আমাকে নয়, আমার মাকেও স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আর আমাকে এমন এক অনুতাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, যেটা হয়তো মৃত্যুর আগ পর্যন্তও ভুলতে পারব না।

আমি রাশেদ। ঢাকার একটি বড় গাড়ির শোরুমে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করি।

আমার স্ত্রী মেহরিন। ঢাকার একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতা করত। খুব বেশি বেতন না, তবে নিজের সম্মান আর ভালোবাসা দিয়ে সংসারটাকে আগলে রাখত।

আমার মা রহিমা বেগম। সারা জীবন মানুষের বাসায় কাজ করেছেন, সেলাই করেছেন, কষ্ট করে আমাকে মানুষ করেছেন। বাবা মারা গিয়েছিলেন আমি খুব ছোট থাকতেই। সেই থেকে মা-ই আমার বাবা, মা, সবকিছু।

তাই মায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর ঋণের শেষ ছিল না। জীবনে কখনো তাঁর কথার অবাধ্য হইনি। তিনি যা বলতেন, সেটাকেই ঠিক মনে করতাম।

মেহরিন যখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখনই মা গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে এলেন।

এসেই বললেন,

— "ছেলের বউয়ের এই সময়ে আমি না থাকলে কে থাকবে? নিজের মেয়ের মতোই দেখাশোনা করব।"

মেহরিনের মুখটা সেদিন কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিল। বুঝেছিলাম, ও চাইছিল সন্তান জন্মের পর কয়েকদিন নিজের মায়ের কাছে থাকতে। কিন্তু আমি তখন ভেবেছিলাম, নিজের মা আর শাশুড়ির মধ্যে পার্থক্য কী? মা তো অভিজ্ঞ মানুষ। কত কিছু জানেন।

আজ বুঝি, জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল সেটাই।
..

আল্লাহর রহমতে আমাদের কন্যাসন্তান জন্ম নিল।

বাড়িতে যেন নতুন আলো নেমে এলো।

মা খুব খুশি হয়ে পরদিন সকালেই বাজারে গেলেন। ফিরে এলেন গরুর পায়া, বিভিন্ন মসলা আর অনেক কিছু নিয়ে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে রান্না করলেন।

বারবার বলতে লাগলেন,

— "এই ঝোল খেলে শরীরে শক্তি আসবে। দুধও ভালো হবে।"

এদিকে মেহরিন তখনও খুব দুর্বল। সন্তান জন্মের কষ্টে মুখ শুকিয়ে গেছে। ঠিকমতো বসতেও কষ্ট হচ্ছিল।

মা এক বাটি ধোঁয়া ওঠা ঝোল এনে বিছানার পাশে রেখে বললেন,

— "নাও, গরম গরম খেয়ে ফেলো। শেষ হলে আবার দেব।"

মেহরিন ধীরে বাটিটার দিকে তাকাল।

উপরে মোটা তেলের স্তর ভাসছে।

ও আস্তে বলল,

— "মা... ডাক্তার বলেছেন প্রথম কয়েকদিন ভারী, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার না খেতে।"

মুহূর্তেই মায়ের মুখের রং বদলে গেল।

— "ডাক্তার! ডাক্তার কী জানে? আমি যখন তোর স্বামীকে জন্ম দিয়েছিলাম, তখন তিনবেলা এসব খেয়েছি। কিছু হয়েছে?"

মেহরিন খুব শান্ত গলায় বলল,

— "সময় তো বদলেছে মা। এখন ডাক্তাররা—"

মা আর শুনলেন না।

কঠিন গলায় বললেন,

— "আমি যা বলছি, সেটাই করো।"

মেহরিন একটু থেমে নিচু স্বরে বলল,

— "ক্ষমা করবেন মা... আমি সত্যিই পারব না। ছোটবেলা থেকেই গরুর পায়া খেতে পারি না। গন্ধেই—"

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই...

ঠাস!

একটা জোরে চড় এসে পড়ল ওর গালে।

ঘরের ভেতর মুহূর্তেই নেমে এল মৃত্যুর মতো নীরবতা।

মেহরিন নিজের গালে হাত দিয়ে স্থির হয়ে বসে রইল।

চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেছে।

মনে হচ্ছিল, ও নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না, ঠিক কী ঘটল।

আমি ছুটে এলাম বারান্দা থেকে।

— "মা! আপনি এটা কী করলেন?"

মা তখনও রাগে কাঁপছেন।

বললেন,

— "আমি এতক্ষণ দাঁড়িয়ে রান্না করলাম, আর সে বলে গন্ধ লাগে? মানে আমার রান্না নাকি নোংরা? এত অহংকার কিসের?"

আমি দেখলাম...

মেহরিনের গালটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লাল হয়ে গেছে।

কিন্তু ও কাঁদল না।

চিৎকারও করল না।

শুধু নিঃশব্দে চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল।

সেই পানি গিয়ে পড়ছিল আমাদের ছোট্ট মেয়ের গায়ে, যাকে সে বুকের কাছে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল।

আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

একদিকে আমার মা...

অন্যদিকে আমার স্ত্রী...

দুজনই আমার সবচেয়ে আপন মানুষ।

কী বলব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।

অনেক কথা মাথায় এল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি এমন একটা কথা বললাম, যেটার জন্য আজও নিজের মুখের দিকে আয়নায় তাকাতে লজ্জা লাগে।

আমি বললাম,

— "মেহরিন... মা তো বড় মানুষ। উনি রাগের মাথায় করেছেন। তুমি প্লিজ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে এটা খেয়ে ফেলো। আজকের মতো বিষয়টা শেষ করে দাও।"

মেহরিন ধীরে ধীরে আমার দিকে তাকাল।

সেই দৃষ্টিটা...

আজও আমাকে ঘুমাতে দেয় না।

সেখানে কোনো অভিযোগ ছিল না।

কোনো চিৎকার ছিল না।

কোনো অভিমানও ছিল না।

ছিল শুধু...

সম্পূর্ণ নিঃশব্দে ভেঙে যাওয়া একটা মানুষের শীতল দৃষ্টি।

মনে হচ্ছিল, ওর ভেতরে আমার জন্য যে শেষ ভালোবাসাটুকু ছিল, সেটাও সেই মুহূর্তে নিভে গেল।

ও আর একটা কথাও বলল না।

নিঃশব্দে বাটিটা হাতে তুলে নিল।

তারপর এক চুমুক...

আরেক চুমুক...

গলা দিয়ে নামাতে কষ্ট হচ্ছিল।

তবু জোর করে খেয়ে যাচ্ছিল।

আর চোখের পানি থামছিল না।

আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিলাম।

সেদিন নিজের কাছেই নিজেকে সবচেয়ে ছোট মানুষ মনে হচ্ছিল।

মা তখন সন্তুষ্ট হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

বাইরে পাশের বাসার এক খালার সঙ্গে কথা বলতে বলতে বললেন,

— "এখনকার মেয়েদের একটু শক্ত হাতে না ধরলে সংসার করতে শেখে না।"

মেহরিন কিছুই শুনল না।

অথবা শুনেও শুনল না।

খালি বাটিটা নামিয়ে রেখে মেয়েকে বুকে নিয়ে আস্তে আস্তে ঘুম পাড়ানোর গান গাইতে লাগল।

কিন্তু সেই গলায় কোনো সুর ছিল না।

ছিল শুধু জমে থাকা কষ্ট।

আমি অনেকবার ভেবেছিলাম ওর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইব।

বলব, আমি ভুল করেছি।

কিন্তু কোনো শব্দ মুখ দিয়ে বের হলো না।
..

সেই রাতেই মেহরিনের প্রচণ্ড জ্বর এল।

বুক ফুলে শক্ত হয়ে গেল।

ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল।

তবু মুখ চেপে সব সহ্য করছিল।

মা শুধু একবার তাকিয়ে বললেন,

— "এসব স্বাভাবিক। একটু কষ্ট তো হবেই।"

তারপর থেকে মেহরিন যেন বদলে গেল।

আগের সেই হাসিখুশি মেয়েটা কোথায় হারিয়ে গেল, জানি না।

ও শুধু তিনটা কাজ করত।

মেয়েকে দুধ খাওয়াত।

ডায়াপার বদলাত।

ঘুম পাড়িয়ে দিত।

এর বাইরে যেন ওর নিজের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

মা যা বলতেন, ও চুপচাপ করত।

কোনো তর্ক না।

কোনো প্রতিবাদ না।

কোনো অভিযোগও না।

মা ভেবেছিলেন, বউমা বুঝি অবশেষে তাঁর কথা মানতে শিখেছে।

কিন্তু আমি বুঝতেই পারিনি...

ওর নীরবতা আসলে ঝড়ের আগের ভয়ঙ্কর নীরবতা।

দিন কেটে গেল।

মেয়ের আকিকার আগের দিন মেহরিনের মা আমাদের বাসায় এলেন।

ঘরে ঢুকেই তাঁর মুখটা কেমন কঠিন হয়ে গেল।

তিনি শান্ত গলায় বললেন,

— "আমি মেহরিনকে কয়েকদিনের জন্য নিয়ে যাব।"

আমি বিন্দুমাত্র আপত্তি করিনি।

হেসেই বললাম,

— "ঠিক আছে খালা। ওরও একটু পরিবর্তন হবে।"

মা তখন পাশে দাঁড়িয়ে বললেন,

— "দুই-একদিন থাকুক। তারপর পাঠিয়ে দিয়েন।"

মেহরিন একবারও পেছনে তাকাল না।

মেয়েকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে দরজার বাইরে চলে গেল।

গাড়িতে ওঠার আগে একবার শুধু আমার দিকে তাকিয়েছিল।

সেই দৃষ্টির অর্থ আমি সেদিন বুঝিনি।

আজ বুঝি।

সেটা ছিল...

একজন মানুষের শেষবারের মতো বিশ্বাস হারানোর দৃষ্টি।

গাড়িটা ধীরে ধীরে রাস্তার মোড় পেরিয়ে চোখের আড়াল হয়ে গেল।

মা তখনও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন,

— "চিন্তা করিস না। দুদিন পর ঠিকই ফিরে আসবে। বাচ্চা নিয়ে মেয়েরা আর কতদিন বাবার বাড়িতে থাকে?"

আমিও তখন সেই কথাই বিশ্বাস করেছিলাম।

দিন গেল।

এক সপ্তাহ।

তারপর আরেক সপ্তাহ।

মেহরিন আমার কোনো ফোন ধরল না।

একটা মেসেজেরও উত্তর দিল না।

শেষ পর্যন্ত একদিন মাকে নিয়ে নিজেই শ্বশুরবাড়িতে গেলাম।

ভাবলাম, গিয়ে দুটো ভালো কথা বলব।

সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যাবে।

দরজায় নক করতেই মেহরিনের মা দরজা খুললেন।

আমাদের দেখে তাঁর মুখ শক্ত হয়ে গেল।

তিনি শুধু বললেন,

— "কী দরকার?"

আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম...

ঠিক তখনই তাঁর পেছনে এমন একটা দৃশ্য চোখে পড়ল...
যেটা দেখে মনে হলো, আমার পায়ের নিচ থেকে পুরো পৃথিবীটাই সরে গেল।

চলবে
অন্তর_অভিমান

পর্ব:১
(copied)

18/07/2026

Argentina vs Spain

Share ur predictions

14/07/2026

Argentina vs England

Share ur prediction

🎉 মেলা! মেলা!! মেলা!!! 🎉দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত জমজমাট মেলা!📍 স্থান: Vincita Dorin...
14/07/2026

🎉 মেলা! মেলা!! মেলা!!! 🎉
দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত জমজমাট মেলা!

📍 স্থান: Vincita Dorin Market (Ground Floor), রূপনগর, মিরপুর

🏡 ইনডোর ও আউটডোর—দুই আয়োজনেই থাকছে প্রাণবন্ত উৎসবের আমেজ।

📅 তারিখ: ১৮–২২ আগস্ট ২০২৬
⏳ ৫ দিনব্যাপী এই মেলায় থাকছে কেনাকাটার দারুণ সুযোগ ও নানা আয়োজন।

🛍️ স্টল থাকবে—
✨ জুয়েলারি
👗 ড্রেস ও পোশাক
👜 ব্যাগ
🎁 এবং আরও অনেক আকর্ষণীয় পণ্য।

আপনার ব্যবসাকে হাজারো ক্রেতার সামনে তুলে ধরার এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

📏 স্টল সাইজ: ৬ × ৩ ফুট

📞 স্টল বুকিং:
01629-210011
01721-441418

সীমিত সংখ্যক স্টল! আজই বুকিং নিশ্চিত করুন।

11/07/2026

Argentina vs Switzerland

share your prediction

07/07/2026

Argentina VS Egypt

Share Your Prediction 🎯

03/07/2026

Argentina VS Cabo verde

Share Your Prediction 🎯

27/06/2026

Argentina VS Jordan

Share Your Prediction 🎯

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when C-town posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to C-town:

Shortcuts

Share