21/04/2026
পর্ব ৪
যত দিন যাচ্ছে তত কাইয়ানার পরীক্ষা এগিয়ে আসছে। কাইয়ানা যতই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে চাই হতে পারে না বার বার শুধু বাবার কথা মনে পড়ে। কাইয়ানা তার বাবাকে অনেক মিস করে তাই তো দিনে একবার হলেও কবরস্থান ওখানে যায় দূর থেকে বাবার কবরটা এক নজর দেখতে। এখন তাইবের সাথে কাইয়ানার প্রতিদিন দেখা হয় না। কাইয়ানা খেয়াল করেছে তাইব আর আগের মতো পিচ্চি পিচ্চি করে না। কাইয়ানা ভাবে হয়তো পড়াশোনার চাপ এই জন্য হয়তো দূরত্ব। কাইয়ানা আর অলি কলেজ শেষ করে কোচিং করে বাড়ি আসছে। অলি এটা ওটা জিজ্ঞেস করছে কাইয়ানা হা হুম বলছে। হঠাৎ তাদের কথার মাঝে কেউ ডেকে উঠে। তারা দুজনে পিছনে তাকিয়ে দেখে সায়র। সায়র তাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ায়। সায়রের ডাকে তারা দুজনে দাড়িয়ে পড়ে। সায়র এসে বলে।
---- হেই পিচ্চিরা কেমন আছো?
অলি সায়রের দিকে তাকিয়ে বলে।
--- ভালো আছি ভাইয়া আপনি....?
সায়র কাইয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে।
--- কি হলো কাইয়ানা তুমি চুপচাপ কেন..?
কাইয়ানা ততক্ষণে মাথা ঝাকিয়ে বলে।
---- কই নাতো।
সায়র কিছু একটা ভেবে বলে।
--- আজকে তোমাদের আমার পক্ষে থেকে আইসক্রিম ট্রিট দিবো চলো।
প্রথমে তারা রাজি হয়নি। কিন্তু সায়র ইমোশনাল ব্যাকমেইল করে রাজি করায়।অবশেষে কাইয়ানা অলি আসে সায়রের সাথে। কাইয়ানা অলি আইসক্রিম খাচ্ছে। খাওয়ার মাঝে হঠাৎ করে কাইয়ানা সায়র কে বলে।
--- সায়র ভাই আজকাল তো তাইব ভাই কে খুব একটা দেখি না। তেমন কথাও বলে না। এখন কি পড়াশোনার অনেক চাপ।
কাইয়ানার কন্ঠ কেমন ভাঙা ভাঙা লাগলো সায়রের কাছে। সায়র পলকহীন দুমিনিট কাইয়ানা কে দেখলো। কি বলবে সায়র বুঝতে পারছে না। আসলে তাইব এখন তার সাথে তেমন আড্ডা দেয় না। সায়র মিহি হেসে বললো।
--- হ্যা তো পড়াশোনার চাপ তো কিছু দিন পর ফাইনাল এক্সাম শুরু হবে।
কাইয়ানা কিছু বললো না ওহ ছাড়া। সায়র দেখলো কাইয়ানার মনটা ছোট হয়ে গেল।কথার মাঝে সায়র দেখলো তাইব নুহা কে নিয়ে কিছু একটা কিনে বাইকে করে চলে যাচ্ছে। শুধু সায়র না অলিও ব্যাপার টা লক্ষ করেছে। কাইয়ানা অন্য দিকে মুখ করে দাড়ানো তাই দেখতে পেল না। এই দৃশ্য দেখে অলি কাইয়ানা কে নিয়ে সায়রের থেকে বিদায় নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।
~ ~ ~
দেখতে দেখতে কাইয়ানার এইচ এস সি পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। প্রথম পরীক্ষার দিনে তাইব আর তার মা কাইয়ানার সাথে দেখা করে যায়।এতে কাইয়ানা অনেক খুশি হয়ে যায় তাইব কে একনজর দেখে। কাইয়ানার স্বপ্ন ল নিয়ে পড়াশোনা করা। তাই তো কাইয়ানা জান প্রান দিয়ে পড়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। যেমন করে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ঠিক তেমন করে শেষ হলো।আজকে কাইয়ানার পরীক্ষা শেষ হয়। এই পরীক্ষার এতো দিন কাইয়ানা তাইবকে প্রথম দিন দেখছে আর দেখেনি তবে মাঝে মাঝে সায়র কে দেখছে। সায়র এসে পরীক্ষা কেমন হয়েছে জিজ্ঞেস করতো। আজ শেষ পরীক্ষা দিয়ে কাইয়ানা অলি হাটছে। অলি তাইব কে বলে।
--- কাইয়ানা তুই সত্যি তাইব ভাই কে ভালোবাসিস।
--- নতুন করে আর কি বলবো তুই তো জানিস আমি তাইব ভাই কে কতো ভালোবাসি।
অলি কাইয়ানার দিকে তাকিয়ে আছে। অলি মুচকি হেসে কাইয়ানার হাত ধরে হাটতে হাটতে বললো।
--- কাইয়ানা তুই তাইব ভাই কে বলে দে তুই তাকে ভালোবাসিস।
--- বলতে তো চাই এই পরীক্ষার জন্য এতো দিন বলিনি তবে যখন বলছি তবে আমি বলবো।
অলি হেসে হেসে বললো।
--- তাহলে চল কাল তার ভার্সিটি গিয়ে বল।
কাইয়ানা একটু অবাক হয়ে বললো।
--- ভার্সিটি "
--- হ্যা ভার্সিটি তো কি হয়েছে আর আমরা তাকে একমাত্র সেখানে পাবো।
অলি কথা ঠিক বলেছে তাই কাইয়ানা সম্মতি দেয় কাল ভার্সিটি গিয়ে তার মনের কথা বলবে। কাইয়ানা আদোও জানে না তার কপালে ভালোবাসা আছে কি নাই।
কাইয়ানার আজকে খুশি খুশি লাগছে আবার একটু নার্ভাস কারণ কাইয়ানা আজকে তাইবকে প্রপোজ করবে। কাইয়ানার মনের সকল ভালোবাসা প্রকাশ করবে। এখন সকাল আটটার মতো বাজে অলি আসলে তাইবের ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হবে।কাইয়ানার ভাবনার মাঝে অলি এসে উপস্থিত হয়। অলি দেখলো কাইয়ানার চোখ মুখ চকচক করছে। কাইয়ানা দেখলো অলি আসছে। কাইয়ানা অলির হাত ধরে খাটে বসে বললো।
--- এই অলি আমার অনেক ভয় করছে যদি তাইব ভাই রেগে যায়।
---" রাগ করবে কেন তাইব ভাই তো তোকে কতো কেয়ার করে এমন কেয়ার কারা করে যারা ভালোবাসে। আর তাইব ভাইয়ের মা তোকে কতো ভালোবাসে। এতো ভয় পেলে চলবে কাইয়ানা ভালোবাসা জিতে নিতে হয়।
অলি কথা গুলো বলে কাইয়ানা কে জড়িয়ে ধরলো। কিছু সময় কথা বলে তাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাদের কথার মধ্যে বেশি ছিল কিভাবে কি করে তাইব কে বলবে তারপর সবাই একসাথে বাইরে লাঞ্চ সেরে বাসায় আসবে।যাওয়ার সময় কাইয়ানা একবার বাবার কবরটা দেখে নিল। দেখতে দেখতে তার বাবার মৃত্যুর ছয়মাস হয়ে গেছে।
কাইয়ানা অলি ফুলের দোকানে ফুল দেখছে। প্রপোজ করতে নিশ্চয়ই ফুল প্রয়োজন। কাইয়ানা গোলাপ ফুল দিয়ে সুন্দর করে তোরা বানিয়ে নিল লাল গোলাপ অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
কাইয়ানা অলি রিক্সা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে যাচ্ছে যেখানে তাইব আছে। অলি বুঝতে পারছে কাইয়ানা অনেক নার্ভাস তাই অলি সারা রিক্সার মধ্যে কাইয়ানা কে সাহস দিয়েছে। অলি কাইয়ানা কে দেখে বললো।
--- কাইয়ানা বেবি এতো নার্ভাস হওয়ার কিচ্ছু নেই তোকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে। তাইব ভাই তোকে দেখে এমনিতেই রাজি হয়ে যাবে। (হেসে হেসে)
কাইয়ানা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে। অলি দেখে মুচকি হাসলো। অলি দুষ্টমি করে বলে।
--- এমা কাইয়ানা বেবি দেখি লজ্জাও পায়।
অলি কাইয়ানা এক বাহু জড়িয়ে ধরে বলে।
--- তুই সত্যি মায়াবিনী। তোকে ভালো না বেসে থাকাই যায় না। দেখিস তুই তাইব ভাইয়ের মায়াবিনী হবি।
তাদের কথা মধ্যে হঠাৎ রিক্সা থেমে যায়। চারপাশে তাকিয়ে দেখে তারা ভার্সিটির গেটের কাছে। রিক্সা থেকে মেনে ভাড়া মিটিয়ে সামনে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। একটু সামনে যেতেই দেখে ভার্সিটির মাঠে সব ছাত্র ছাত্রীর ভীর। কাইয়ানা ভয় পেয়ে অলির হাত ধরে বলে।
--- এই অলি এতো ভীর কেন কি হয়েছে।
--- তুই যেখানে আমিও তো সেখানে কি হয়েছে দেখার জন্য ভেতরে যেতে হবে চল যাওয়া যাক।
কাইয়ানা অলি ভীর ঠেলে ভেতর যায়। ভেতরে গিয়ে কাইয়ানা স্তব্ধ হয়ে যায়। কাইয়ানা দেখতে পায়। তাইব মাটিতে এক হাটু মুড়ে হাতে একটা রিং নিয়ে নুহা কে প্রপোজ করে। কাইয়ানার কানে তাইবের বলা কথাটা কানে আসলো।
--""তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকে, অজান্তেই তুমি আমার প্রতিটি ভাবনায়, প্রতিটি স্বপ্নে জায়গা করে নিয়েছো। আমি জানি না ভবিষ্যৎ কেমন হবে, কিন্তু আমি এটুকু জানি, তোমার হাত ধরে চলতে পারলে, সবকিছুই সহজ মনে হবে। তুমি কি আমার জীবনের সঙ্গী হতে চাও?৷ Will you marry me
নুহা যেন খুশি হয়ে তার হাতটা এগিয়ে দিল সঙ্গে সঙ্গে তাইব নুহার হাতে রিং টা পড়িয়ে দিল। সাথে সাথে সকলের চিৎকার করে উঠলো। কাইয়ানা আর কিছু দেখতে পারলো না তার চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পড়ছে। কাইয়ানা দাড়াতে পারছে না পা দুটো কেমন ভেঙে আসছে। কাইয়ানা কোন রকম ছুটে চলে যায়। কাইয়ানার হাতের ফুল গুলো মাটিতে পড়ে আছে দূর থেকে কাইয়ানা কে সায়র খেয়াল করছে। কাইয়ানার চলে যাওয়া দেখে অলিও যায় এসময় কাইয়ানার পাশে থাকা অলির প্রয়োজন। তাদের পিছু সায়রও নেয়।
কাইয়ানা চোখের পানি মুছতে মুছতে দৌড়ে যাচ্ছে।
চলবে......
(ভুল গুলো ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন)
For order and price kindly inbox us 📥